নরসিংদীতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মারধর ও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী এম এ কাইয়ুম। এজাহারে চারজনকে গ্রেপ্তারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এম এ কাইয়ুমের সঙ্গে মোছা. ইতি আক্তার ওরফে মুন্নীর মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে নিয়মিত ফোনে ও ইমুতে যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে দেখা করার কথা বলে তাকে নরসিংদী রেলস্টেশনের বিপরীত পাশের সড়কে আসতে বলা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সেখানে ইতি আক্তার ওরফে মুন্নী, আল আমিন, জুনায়েদ মিয়া, মোক্তার হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক একটি বাসায় নিয়ে যান। পরে নরসিংদী সদর মডেল থানার হাজীপুর সাহাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সেখানে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার এবং লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে চাকু দেখিয়ে ভয় দেখানো এবং ইতি আক্তার ওরফে মুন্নীর পাশে জোরপূর্বক বসিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার সঙ্গে থাকা চার হাজার টাকা নিয়ে নেওয়ার পর পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আনতে চাপ দেওয়া হয়। পরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা এবং ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও তাকে আরও টাকা আনার জন্য মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে বলা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত থেকে পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সারাদিন তাকে ওই বাসায় আটকে রাখা হয়। পরে তার ছোট ভাই নরসিংদী ডিবি পুলিশের সহায়তা নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আল আমিন, মোক্তার হোসেন, জুনায়েদ মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ইতি আক্তার ওরফে মুন্নীকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এজাহারকারী এম এ কাইয়ুম। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।