নরসিংদীতে মদ বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করে মদ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
নরসিংদী পৌর শহরের বাজির মোড় এলাকায় একটি লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানে তানভীর আহমেদ রাব্বি নামে এক কর্মচারীকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে দগ্ধ করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহসিন বিদ্যুৎ এ বক্তব্য দেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনামূল্যে ১০ লিটার দেশীয় মদ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ওই ঘটনা ঘটে। রাব্বিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ফেসবুক পোস্টে মহসিন বিদ্যুৎ বলেন, মদ বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করে মদ নিষিদ্ধ করা উচিত। তিনি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মদ পান ও বিক্রিকে হারাম উল্লেখ করে সরকারের দেওয়া লাইসেন্সের মাধ্যমে মদ বিক্রির অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মহসিন বিদ্যুতের দাবি, একদিকে মাদক নির্মূলের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে লাইসেন্সের মাধ্যমে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি পরস্পরবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মদ্যপানের কারণে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে। এ কারণে মদ বিক্রির অনুমোদন ও লাইসেন্সের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মহসিন বিদ্যুৎ নরসিংদীর ১৯৯৯ সালের বিষাক্ত মদপানে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনাটিও উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই বছরের মে মাসে নরসিংদীতে বিষাক্ত মদপানে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। জাগো নিউজের একটি প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১১৭ বলা হয়েছে। সে সময়ের আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনেও ১১৩ থেকে ১১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
এ ছাড়া তানভীর আহমেদ রাব্বিকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে দগ্ধ করার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মহসিন বিদ্যুৎ।
এদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর রাব্বিকে আগুনে দগ্ধ করার ঘটনার প্রতিবাদে নরসিংদী পৌরসভার সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধন থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়। পরে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন বাজির মোড়ের একটি আবাসিক হোটেলে ভাঙচুর চালালে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তানভীর রাব্বির মৃত্যুর বিষয়ে আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সংবাদটি আপডেট করার সুযোগ রয়েছে। তবে মৃত্যুর খবরটি হাসপাতাল, পরিবার বা পুলিশের মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ‘মারা গেছেন’ হিসেবে প্রকাশ না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে নিরাপদ।